তালতলীর গোল গাছের
ঝোলা গুড়

তালতলীর গোল গাছের গুড়: দক্ষিণের এক অনন্য মিষ্টতা।

পৌষ থেকে ফাল্গুন — বেহালা গ্রামের বাহরে বিকেলে গাছে পাত্র বাঁধা হয়, সকালে সেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। শুধু গাছের রস জ্বাল দেওয়া হয়।

মিষ্টি খেতে চান, চিনি নিয়ে ভাবনা আছে?

পাম সুগারের জিআই প্রায় ৩৫–৫৪ বলা হয়, সাদা চিনির প্রায় ৬৮। পরিমিত পরিমাণে নিন। ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণটা ডাক্তারের সঙ্গে মিলিয়ে নিন — এটা ওষুধ নয়।

✓ শুধু গাছের রস থেকে✓ হাতে জ্বাল দেওয়া✓ ক্যাশ অন ডেলিভারি
গোল গাছের ঝোলা গুড়ের জার
গোল গাছের ঝোলা গুড় — ঘন আঠালো, তরল। ঠান্ডায় দানা পড়তে পারে, এটা স্বাভাবিক।

গোল গুড়ের গুণ

এই গুড়টা কেন মানুষ খুঁজে খুঁজে কেনে

কথা বাড়িয়ে নয়, কাজের কথাগুলোই নিচে দেওয়া হলো।

📉কম জিআইজিআই প্রায় ৩৫–৫৪ বলা হয়, সাদা চিনির প্রায় ৬৮। পরিমিত পরিমাণে নেওয়াই ঠিক।
🌿শুধু গাছের রসগাছের রস জ্বাল দিয়েই গুড় বানানো হয়।
🥄আঠালো ঝোলা টেক্সচারআঠালো, তরল — চামচ দিয়ে তুলে সরাসরি খাওয়া যায়। ঠান্ডায় দানা পড়তে পারে, এটা স্বাভাবিক।
📍শুধু তালতলীর বেহালা থেকেগোল গাছ লবণাক্ত উপকূলের মাটি ছাড়া জন্মায় না। বেহালা গ্রামেই সবচেয়ে বেশি বাহর।

পার্থক্যটা কোথায়

অন্য গুড়ের চেয়ে গোল গুড় কেন আলাদা

এক নজরে দেখে নিন — কোনটা কোথা থেকে আসে, কেমন খেতে, আর কখন পাওয়া যায়।

খেজুরের গুড়

কোথা থেকেখেজুর গাছের রস
টেক্সচারঝোলা বা পাটালি
স্বাদপরিচিত মিষ্টি স্বাদ
পাওয়া যায়শীতে দেশজুড়ে
৪১জিআই (প্রায়)
জিআই স্কেল (০–১০০)

তালের গুড়

কোথা থেকেতাল গাছের রস
টেক্সচারঝোলা, পাতলা
স্বাদহালকা স্বাদ, তালের নিজস্ব গন্ধ
পাওয়া যায়মৌসুমে, সীমিত
কমজিআই — চিনির চেয়ে কম বলা হয়

সাদা চিনি

কোথা থেকেআখ, কারখানায় পরিশোধিত
টেক্সচারদানাদার, শুকনো
স্বাদশুধু মিষ্টি
পাওয়া যায়সারা বছর, সবখানে
৬৮জিআই (প্রায়)
জিআই স্কেল (০–১০০)

জিআই এর সংখ্যাগুলো প্রায়, গাছ আর জ্বালের উপর নির্ভর করে কিছুটা এদিক-ওদিক হতে পারে। কোনো গুড়ই ওষুধ নয়।

গোল গুড় নিন, যদিঝোলা গুড় পছন্দ করেন, ক্যারামেল স্বাদ চান, আর চিনির চেয়ে কম জিআই ওয়ালা বিকল্প খুঁজছেন।
খেজুর গুড় নিন, যদিশীতের পরিচিত পিঠা-পায়েসের স্বাদটাই চান।
তালের গুড় নিন, যদিহালকা, নরম স্বাদের তালের গুড় পছন্দ করেন।
তালতলীর গোল বাহর থেকে তৈরি ঝোলা গুড়

তালতলীর গোলের গুড়ের গল্প

বেহালার গোল গাছের রস থেকে গুড়

তালতলীতে প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে প্রায় ২০ হাজার গোল গাছ আছে। এর মধ্যে বেহালা গ্রামেই প্রায় ১৫ হাজার। পৌষ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত রসের মৌসুম চলে, আর এই সময়টায় প্রায় সাড়ে তিনশো পরিবার এই কাজে থাকে। একজন গাছি দিনে ৩০০ থেকে ৪০০টি গাছের রস আহরণ করতে পারেন। এক কলস রস দিয়ে মোটামুটি তিন কেজি গুড় তৈরি হয়।

আষাঢ় মাসে গাছে গাবনা ফল আসে। অগ্রহায়ণ মাসে ডাঁটিটা নুইয়ে, কয়েক দিন দোয়ানোর পর পৌষের শুরুতে কাণ্ড কেটে রস সংগ্রহ শুরু হয়। এই পুরো কাজটা হাতে হাতে, মেশিনে নয়।

ব্লগে পুরো গল্পটা পড়ুন →

কীভাবে তৈরি হয়

চারটা ধাপ, কোনো গোপন উপাদান নেই

  1. ১বাহরে রস সংগ্রহবিকেলে গাছে পাত্র বেঁধে রাখা হয়।
  2. ২সকালে জ্বালতাজা রস ছেঁকে আগুনে জ্বাল দেওয়া হয়।
  3. ৩ঝোলা অবস্থায় নামানোপাটালি করার মতো বেশি জ্বাল দেওয়া হয় না।
  4. ৪জারে ভরাঠান্ডা হলে ফুড-গ্রেড জারে ভরে পাঠানো হয়।

গোল গুড়টা আগে চেখে দেখুন

১ কেজি দিয়ে শুরু করুন — ভালো লাগলে পরে বেশি নেবেন।

গোল গুড়ের পেজে যান →